বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাজারে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। মার্চ মাসে এককভাবে রপ্তানি আয় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ইউরো হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ কোটি ইউরো কম। এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। তিন মাসে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। একই সময়ে ইইউ দেশগুলোর মোট পোশাক আমদানি মূল্য ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং পরিমাণ ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা আরও বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবর্তন ও প্রতিযোগী দেশগুলোর সক্রিয়তা ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ কোনো অপমান সহ্য করবে না এবং বাহ্যিক চাপের মুখে মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছ থেকে তেহরান শিখেছে কিভাবে জাতীয় সম্মান বজায় রাখতে হয়। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা, যা যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনার সূচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। এর ফলে বছরের শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৫৭ শতাংশই শীর্ষ ১০ ব্যাংকে কেন্দ্রীভূত। ২০২২ সালে ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার পর থেকে এ প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী মাত্র ২ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাওয়া যায়, প্রথম দুই বছর থাকে গ্রেস পিরিয়ড। নীতি-সহায়তার আওতায় ১,৫১৬টি আবেদনের মধ্যে ২৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়িত হয়েছে, যার পরিমাণ ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। তবে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ আবার খেলাপি হয়েছে। আইএমএফ এসব ঋণকে ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ হিসেবে বিবেচনা করে। খেলাপি, পুনঃতফসিল ও অবলোপন মিলিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিল্প খাতের অংশ সর্বাধিক, ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ ইতিহাসকে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনাকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলেও একই প্রবণতা নতুন রূপে ফিরে আসে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপনের চাপের মাধ্যমে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, ফলে গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর হারিয়ে ক্ষমতার প্রতিধ্বনিতে পরিণত হয়। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও সত্য দমনের সংস্কৃতির ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান। মূলধারার গণমাধ্যম তখন জনগণের ক্ষোভ ও বৈষম্যের বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিক সাংবাদিকতা সেন্সরশিপ ভেঙে সত্য প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও সে সময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতার চিত্র প্রকাশ করে। লেখক গণমাধ্যম সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবমুক্ত সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, কালো আইন বাতিল এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মিক্সড মার্শাল আর্টস ইভেন্টে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রত্যেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন। টাইসেন প্রোপারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সহিংসতার ষড়যন্ত্রের অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক শুনানি আগামী ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে আশপাশের ভবনে আঘাত হানার এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। আতঙ্কে ছুটতে থাকা জনতাকে স্নাইপার দলের দিকে ঠেলে দেওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসের ফটকে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও ছিল। আদালতের নথিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নাম রয়েছে, যদিও সবাই ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন না। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, কয়েকটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করা হয়েছে।

তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা একসঙ্গে এগোচ্ছে। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন এবং রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের দুই দিনের ঢাকা সফরকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তুর্কি বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয় এবং সমতা ভিত্তিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশ প্রধানত পাট, পোশাক, চামড়া ও সিরামিক রপ্তানি করে, আর তুরস্ক থেকে তুলা, পেট্রোলিয়াম, যন্ত্রাংশ ও ইস্পাত আমদানি করে। সফরে মুক্ত বাণিজ্য ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ তুরস্কের কাছ থেকে ড্রোন ও রকেট সিস্টেম ক্রয় করছে। সাংস্কৃতিক দিক থেকে তুর্কি টিভি সিরিয়াল, পোশাক ও খাবার বাংলাদেশের তরুণ সমাজে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘ইউনুস এমরে’ কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত দৈনিক আমার দেশ–এর এক নিবন্ধে লেখক আবুল আসাদ দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ব্যাপক অনুপ্রবেশের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ঐতিহাসিক তথ্য, ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান ও জনগণনা বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, সংঘ পরিবার, বিজেপি ও বজরং দলের মতো সংগঠনগুলো এই অনুপ্রবেশ তত্ত্ব ব্যবহার করছে ভারতের মুসলমান নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সরকারি রেকর্ডে সীমিত সংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করলেও রাজনৈতিক প্রচারণায় তা লাখো কোটিতে রূপ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনগণনা বিশ্লেষণ দেখায়, কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেনি; বরং অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির তারতম্য দেখা যায়। লেখকের মতে, এই অনুপ্রবেশ তত্ত্ব ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পুরোনো কৌশলেরই ধারাবাহিকতা, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা। তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকায় এসব ষড়যন্ত্র কখনো সফল হয়নি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে যে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রায় ৫ হাজার জাতিগত বাঙালি মুসলমানকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশব্যাক করেছে। সংস্থাটি জানায়, পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু ক্ষমতায় আসার পর এসব ঘটনা ঘটেছে এবং অনেকের বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একাধিকবার বাংলাদেশ সীমান্তে পুশব্যাকের চেষ্টা চালিয়েছে। পঞ্চগড় সীমান্তে প্রায় ৭৫ ঘণ্টাব্যাপী অচলাবস্থার ঘটনায় কয়েকটি পরিবার সীমান্তের জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় আটকা পড়েছিল। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের জন্য একটি নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এইচআরডব্লিউ ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশকেই মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তারের পর পলাতক ৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্তে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব কর্মকর্তা পালিয়ে যান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। তাদের অবস্থান শনাক্তে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ অনেকে। সূত্র জানায়, অধিকাংশ পলাতক কর্মকর্তা ভারতে অবস্থান করছেন, কেউ ইউরোপে গেছেন, আবার কেউ দেশে আত্মগোপনে আছেন। তাদের বেতন ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২৬ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে সাবেক দুই আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও এ কে এম শহীদুল হক কারাগারে আছেন এবং সাত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অতিরিক্ত আইজিপি জানান, পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের বিষয়টি সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

সাড়ে তিন মাসের ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ইসরাইলের কোনো ভূমিকা না থাকায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই চুক্তির ফলে ইরান তার শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ একে ৭ অক্টোবরের পর নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। চুক্তিটি ইসরাইলের মধ্যপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি উভয় পক্ষের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট একে ব্যর্থ সরকারের পরিণতি বলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও চুক্তিটিকে ‘বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এখন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে। লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ, লেবানন সংকট ও ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

test
test

test

ফেব্রুয়ারী ২০১৪ থেকে চলমান
রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধ

রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শুরু হয় ২০১৪ সালে যা এখনো চলমান। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া ও দনবাসের কিছু অংশকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এবং রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। পুনরায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া যা এখনো চলছে।